স্বাস্থ্যসেবায় সামাজিক গবেষণার ভূমিকা
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনার জন্য সামাজিক গবেষণা একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। এটি শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিতই করে না, বরং সমাধানের উপায়ও নির্দেশ করে। নিচে এর বিস্তারিত ভূমিকা বর্ণনা করা হলো:
১. স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিতকরণ (Identifying Health Issues)
- সমাজের কোন স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন তা গবেষণার মাধ্যমে বের করা হয়।
- উদাহরণ: বাংলাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ কোথায় বেশি, তা জানতে গবেষণা করা হয়।
২. স্বাস্থ্য আচরণ বিশ্লেষণ (Understanding Health Behaviors)
- মানুষ কেন স্বাস্থ্যবিধি মানে না বা চিকিৎসা থেকে দূরে থাকে, তার কারণ গবেষণা করে বের করা হয়।
- উদাহরণ: গ্রামীণ নারীদের প্রসবপূর্ব চেকআপে অনীহার কারণ গবেষণা করা।
৩. স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে সহায়তা (Informing Health Policies)
- গবেষণালব্ধ তথ্য সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোকে সঠিক নীতি ও বাজেট নির্ধারণে সাহায্য করে।
- উদাহরণ: ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নে তামাক ব্যবহারের হার সম্পর্কিত গবেষণা ব্যবহৃত হয়েছে।
৪. স্বাস্থ্য কর্মসূচির মূল্যায়ন (Evaluating Health Programs)
- কোনো স্বাস্থ্য প্রকল্প কতটা সফল হয়েছে বা কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, তা গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
- উদাহরণ: ইপিআই (টিকা কার্যক্রম) এর সাফল্য মূল্যায়নে গবেষণা।
৫. স্বাস্থ্য বৈষম্য কমাতে সাহায্য (Reducing Health Inequalities)
- সমাজের দরিদ্র, নারী, আদিবাসী বা প্রান্তিক গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী বাধা আছে, তা গবেষণায় উঠে আসে।
- উদাহরণ: পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের মাতৃমৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ অনুসন্ধান।
৬. নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা (Adopting New Interventions)
- গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই বা নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।